সাদিয়া তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেল। মামার বাড়িটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত। খুবই ঘনবসতিপূর্ণ ঐ এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং আর গাড়ি ছাড়া তেমন কিছু নেই। প্রচণ্ড গরমে সে অস্বস্তিবোধ করতে লাগল। তার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে তার বাবা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আনোয়ার সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, ঐ এলাকার মানুষের অসচেতনতাই এর জন্য দায়ী।
সাদিয়ার মামার বাড়িটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত। এলাকাটি খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। যেখানে বড় বড় বিল্ডিং আর গাড়ি ছাড়া তেমন কিছু নেই।
এখানকার শিল্প কারখানা এবং গাড়ি থেকে অনবরত বিষাক্ত গ্যাস বিশেষ করে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় মানুষের নিঃশ্বাসের সাথেও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। এখানে গাছপালা নেই বললেই চলে। গাছপালা না থাকার কারণে একদিকে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হচ্ছে। অন্যদিকে গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষণ করতে পারছে না। বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বেশি থাকায় গরম বেশি লাগছে। গাছপালা পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। গাছপালা না থাকায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে রয়েছে। মামার বাড়ির এ দূষিত ও গরম পরিবেশই সাদিয়ার অস্বস্তিবোধ করার কারণ।
কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানের পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে ফসল চাষ, মাছ চাষ ও গৃহপালিত পশু-পাখি পালনের উপর। আবার জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। আমরা এ অধ্যায়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধারণা, উপাদানসমূহ এবং কৃষিকাজে এর প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানব। পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চলগুলো কী, কী? বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস প্রবণ অঞ্চলগুলো সম্পর্কেও জানব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?