Academy

সাদিয়া তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেল। মামার বাড়িটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত। খুবই ঘনবসতিপূর্ণ ঐ এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং আর গাড়ি ছাড়া তেমন কিছু নেই। প্রচণ্ড গরমে সে অস্বস্তিবোধ করতে লাগল। তার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে তার বাবা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আনোয়ার সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, ঐ এলাকার মানুষের অসচেতনতাই এর জন্য দায়ী।

মামার বাড়িতে সাদিয়ার অস্বস্তিবোধ করার কারণ বর্ণনা কর। (প্রয়োগ)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

সাদিয়ার মামার বাড়িটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত। এলাকাটি খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। যেখানে বড় বড় বিল্ডিং আর গাড়ি ছাড়া তেমন কিছু নেই।

এখানকার শিল্প কারখানা এবং গাড়ি থেকে অনবরত বিষাক্ত গ্যাস বিশেষ করে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় মানুষের নিঃশ্বাসের সাথেও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। এখানে গাছপালা নেই বললেই চলে। গাছপালা না থাকার কারণে একদিকে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হচ্ছে। অন্যদিকে গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষণ করতে পারছে না। বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বেশি থাকায় গরম বেশি লাগছে। গাছপালা পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। গাছপালা না থাকায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে রয়েছে। মামার বাড়ির এ দূষিত ও গরম পরিবেশই সাদিয়ার অস্বস্তিবোধ করার কারণ।

9 months ago

কৃষি ও জলবায়ু

কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানের পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে ফসল চাষ, মাছ চাষ ও গৃহপালিত পশু-পাখি পালনের উপর। আবার জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। আমরা এ অধ্যায়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধারণা, উপাদানসমূহ এবং কৃষিকাজে এর প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানব। পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চলগুলো কী, কী? বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস প্রবণ অঞ্চলগুলো সম্পর্কেও জানব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • কৃষি কার্যক্রমে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
  • আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি পরিবেশ অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারব।
  • বাংলাদেশের মানচিত্রে কম বৃষ্টি, বেশি বৃষ্টি, বন্যাপ্রবণ, জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারব।
Content added By

Related Question

View More

1 জলবায়ু কাকে বলে? (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে।

জমি চাষের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হলে জমি চাষ বা বীজবপন কোনোটাই ঠিক সময়ে করা সম্ভব হয় না। ফসল চাষে সময়মতো ও পরিমাণমতো বৃষ্টিপাত সংঘটিত না হলে প্রয়োজনীয় রসের অভাবে জমি চাষ দেওয়া সম্ভব হয় না।

কোয়েল যে ফসলের বীজ বপন করেছিল তার নাম সরিষা, আর যে মৌসুমে বীজগুলো বপন করেছিল সেটি ছিল খরিফ ঋতুর চৈত্র মাস। প্রকৃতপক্ষে সরিষা হলো রবি ঋতুর ফসল। আর বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হল আশ্বিন-কার্তিক মাস। সরিষা চাষের জন্য কম তাপমাত্রা, কম বৃষ্টিপাত, শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসের কম আর্দ্রতা এবং ছোট দিনের প্রয়োজন হয়, যা রবি মৌসুমে বিরাজ করে। কিন্তু চৈত্র মাসে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায়। দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়, ঝড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টি হয়। আবহাওয়ার এসব অবস্থা সরিষা চাষের জন্য সম্পূর্ণ প্রতিকূল। আবহাওয়ার এ প্রতিকূলতায় সরিষার চারাগুলো টিকে থাকতে পারে নি বলে মরে গেছে।

কৃষিকাজ ও শস্যের উৎপাদন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। সব ফসল বছরের সব সময় হয় না। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, দিনের আলোর দৈর্ঘ্য ইত্যাদির তারতম্যের কারণেই বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন শস্য জন্মে। আর এসব বিবেচনা করে সারা বছরকে দুটি কৃষি মৌসুমে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১. রবি ঋতু ও ২. খরিফ ঋতু।

রবি ঋতুতে বৃষ্টিপাত কম হয়, আবহাওয়া শুষ্ক ও তাপমাত্রা কম থাকে। পক্ষান্তরে খরিপ মৌসুমে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। অধিকাংশ সময়ে আকাশ মেঘলা থাকে। রবি মৌসুমে গম, সরিষা, মূলা, ফুলকপি, ডাল, তামাক, টমেটো, লাউ ইত্যাদি ভালো জন্মে। খরিপ ঋতুতে ধান, পাট, ভুট্টা, কাউন, তিল, মাষকালাই, মুগ ইত্যাদি ভালো জন্মে। এ দু মৌসুমের কোনো ফসলকে যদি নির্দিষ্ট মৌসুম বাদ দিয়ে অন্য মৌসুমে চাষ করা হয় তবে তা জন্মাবে না। যদি কোনোভাবে জন্মায়ও তবে ফলন হবে না। তাই ফসল চাষ করতে হলে নির্দিষ্ট ফসলের মৌসুম সম্পর্কে জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে হয়ে থাকে।

বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। বায়ুর আর্দ্রতা মূলত জলীয় বাষ্প নির্ভর। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত জলাশয় এবং উদ্ভিদ থেকে জলীয় বাষ্পের সৃষ্টি হয়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘ এবং মেঘ থেকে বৃষ্টিতে পরিণত হয়। সুতরাং বাতাসের আর্দ্রতার জন্যই বৃষ্টিপাত হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...